আমার ফেসবুক

Thursday, September 24, 2009

একটি ঝরাপাতার কাব্য

কোন এক কনকনে ঠান্ডা শীতে

গাছ থেকে ঝরে পড়েছিলো একটি পাতা

তারপর সেই ঝরাপাতাটি উড়তে উড়তে

চলে গেল দূরের সেই ছোট্ট গাঁয়ে

যে গাঁয়ের ছোট্ট এক কোণে

নির্জন এক সবুজ বনানীর

কোন এক গাছের গোড়ায় বসে

আনমনে বসে কিছু ভাবছিল

নিঃসঙ্গ এক কিশোর,

ঝরা পাতাটি উড়তে উড়তে

ঠিক গিয়ে পড়লো

আনমনা সেই কিশোরের কোলে।


ঝরা পাতাটি কিশোরটির কাছে আসতেই

তার ভাবনার ডাল শাখা গজালো নতুন দিকে।


পাতাটিতে হয়তোবা মিশে আছে

কোন নিঃসঙ্গ মানুষের না বলা কোন কথা,

নীল রঙের বেদনা হয়ে

কথাগুলো মিশে আছে পাতাটির সাথে

তাইতো একদা সজীব সতেজ এই পাতাটি

আজ শুকনো, নির্জীব হয়ে

ঝরে পড়েছে গাছের ডাল হতে

আর উড়ে এসেছে তারই কাছে

তার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হতে।।


Wednesday, August 26, 2009

সুরঞ্জনার স্পর্শ

সুরঞ্জনা
আজ তোমার স্পর্শ বড়ই মিস করছি
সেই কাক ডাকা ভোর থেকে
যখন থেকে ঘুম ভেঙ্গে একাকী আনমনে
বসে আছি জানালার ধারে
তখন থেকেই তোমার দুহাতের ছোঁয়ায়
দূর অজানায় হারাতে মন চাইছে।


সুরঞ্জনা
তোমারও কি মনে পড়েনা?
সেই দিনগুলোর কথা?
যখন তুমি আর আমি দুজনে মিলে
হাত দুটি ধরে যেতাম চলে
দূর সাগরের পাড়ে
অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্ন চোখে নিয়ে।


আজ এতদিন পরে
আবারও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে
সেই স্বর্ণালী দিনগুলোতে
দূরের নীল সাগরের পাড়ে
তোমার হাতে হাত রেখে
হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে সুরঞ্জনা
আমার হৃদয়ের এই আকুতি
তুমি কি শুনতে পাওনা?

ক্ষমা করো, হে পিতা

হে পিতা
তোমার কারণে আজ মোরা এ দেশ পেয়েছি
তাই তোমায় জানাই কৃতজ্ঞতা
নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে
তুমি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছ
তাই তোমায় জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।


তুমি যদি না দেখতে স্বপন
তবে হত না মোদের
স্বাধীন দেশে রাত্রিযাপন,
তুমি ছিলে বলেই আজ মোরা
করি স্বাধীন দেশে বসবাস
তুমি ছিলে বলেই আজ মোরা
পেয়েছি লাল-সবুজের নিবাস।


পনেরই আগষ্টের সেই কালো রাত্রিতে
যেদিন পশুরা কেড়ে নিল তোমার প্রাণ
তুমি চলে গেলে আমাদের ছেড়ে
দূরের সেই অজানার পাড়ে
সেই কালো রাত্রির এত বছর পরেও
মোরা পারিনি সেই পশুদের শাস্তি দিতে
আজও দেখি ঘৃণ্য সেই পশুরা
দেশে বিদেশে বুক দাপিয়ে বেড়ায়
আজও দেখি তোমার গড়া দলের মানুষেরা
তোমার সন্মান ধুলায় মেশায়।


প্রতিনিয়ত তোমার প্রতি এত অন্যায় দেখেও
মোরা হয়ে আছি নির্বাক নিথর
হে পিতা, তুমি মোদের ক্ষমা করো
ক্ষমা করো মোদের নির্লিপ্ততাকে
তোমার হত্যার বিচার মোরা করতে পারিনি
পারিনি মোরা সেই পশুদের শাস্তি দিতে
দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে
একদা তুমি মোদের করেছিলে ঋণী
সে ঋণ মোরা আজও শোধ করতে পারিনি
হে পিতা, ক্ষমা করো মোদের এ অক্ষমতাকে।।


১৫ই আগষ্ট, ২০০৯

বৃষ্টি ও জমাটবাঁধা কষ্ট

মাঝে মাঝে বৃষ্টিকে খুব ঈর্ষা হয়
বৃষ্টির ফোঁটার মত অঝোর ধারায়
দু’চোখ থেকে অশ্রু ঝরাতে ইচ্ছে হয়
হৃদয়ের মাঝে জমে থাকা জমাট কষ্টগুলোকে
বৃষ্টির জলে ভাসিয়ে দিয়ে
নতুন করে সবকিছু ভাবতে ইচ্ছে হয়।


কিন্তু কেন যেন দু’চোখ বেয়ে
আগের মত আর অশ্রু ঝরেনা
প্রচন্ড কষ্টে হৃদয়ে যখন সৃষ্টি হয় ক্ষতের
তখন আর ডুকরে কেঁদে উঠতে পারিনা,

জমাটবাঁধা রক্তের মত
কষ্টগুলো তাই হৃদয়ের মাঝে গেঁথে রয়
আর বারে বারে শুধু মনে করিয়ে দেয়
কতটা বিষণ্ন আমি
কতটা একাকী আমি।।

১৩ই আগষ্ট, ২০০৯

Friday, July 17, 2009

কল্পনাবিলাস

কল্পনাতে আকাশ দেখি
কল্পনায় গান গাই
কল্পনাতে দূর পাহাড়ে
একলা হেঁটে যাই।

কল্পনাতে ছবি আঁকি
নদীর ধারে বসে
নদীর পাড়ে ভেলায় করে
যাই চলে দূর দেশে।

কল্পনাতে জোছনা দেখি
সন্ধ্যাকাশের পরে
নীল জোছনার আলো দিয়ে
স্বপ্ন রাখি ধরে।।


৮ই জুলাই, ২০০৯

Tuesday, June 30, 2009

উদাসী বৃষ্টি

অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি
দমকা হাওয়া নিয়ে
মনটে যে তাই যাচ্ছে ভিজে
কষ্ট সয়ে সয়ে।

আষাঢ়ের এই বারিধারায়
উদাস হয় এ মন
ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে
ভিজতে সারাক্ষণ।

তুমি তো নেই আজ এ ক্ষণে
বৃষ্টিস্নাত দিনে
উদাস করা এ দিনটিতে তাই
তোমায় পড়ে মনে।।

Friday, June 26, 2009

যান্ত্রিকতার প্রতীক্ষায়

মাঝে মাঝে খুব যন্ত্রমানব হতে ইচ্ছে করে
কাজের মধ্যে ডুবে থেকে
মানবীয় অনুভূতিগুলো থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে
শুধু ভেবে যাই কাজের মাঝে ব্যস্ত হয়ে
হয়তোবা জীবনের সকল দুঃখ ভুলে থাকা যায়।

আমি তাই এখন প্রচন্ড ব্যস্ততা চাই
ব্যস্ততার মাঝে ডুবে থেকে
নিজেকে একটা যন্ত্রমানবরূপে দেখতে চাই
মানবিক সব অনুভূতিকে পেছনে ফেলে
সমস্ত আবেগকে কবর দিয়ে
শুধু ব্যস্ত সময়ের পেছনেই ছুটতে চাই।।


৪ঠা জুন, ২০০৯